Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৯ মার্চ ২০১৮

তোষাখানার পরিচিতি

 

 

তোষাখানা অর্থ এমন একটি ভাণ্ডার, যেখানে রাষ্ট্রের মহামূল্যবান উপহার সামগ্রী ও তৈজসপত্র সংরক্ষিত রাখা হয়। এসব উপহার সামগ্রীর মধ্যে দেশি বা বিদেশি তৈজসপত্র, স্মারক চাবি, মুদ্রা, কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্মরণিকা, মুকুট, ক্রেস্ট, কোনো মহান ব্যক্তির প্রতিকৃতি অথবা আলোকচিত্র, শিল্পকর্ম, লোকশিল্প বা হস্তশিল্পের নমুনা প্রভৃতি উল্লেখ্যযোগ্য।

 

বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বঙ্গভবনে একটি সমৃদ্ধ তোষাখানা রয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধান বা খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গ প্রদত্ত উপহার সামগ্রী এ তোষাখানাসাজিয়ে রাখা হয়েছে। বঙ্গভবনের তোষাখানাটি  মানুক হাউজে, স্থান সংকুলান না হওয়ায় কিছু কিছু উপহার সামগ্রী মানুক হাউজ থেকে  বঙ্গভবনের বৃত্তাকার রন্ধনশালার দোতলায় স্থানান্তর করা হয়।  ইতোমধ্যে ঢাকাস্থ শেরেবাংলা নগরে একটি রাষ্ট্রীয় তোষাখানা নির্মানাধীন আছে । নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে তোষাখানাটি সেখানে স্থানান্তর করা হবে।

 

স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রপ্রধানকে উপহার দেওয়ার রেওয়াজ চালু হয়। ফলে তোষাখানার সংগ্রহ বৃদ্ধি পেতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ টেলিভিশন, পুলিশ একাডেমি ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রতিষ্ঠান মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে নানাবিধ স্মারক ও ক্রেস্ট উপহার দেন। দেশের বিখ্যাত শিল্পীরাও তাঁদের শিল্পকর্ম মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে উপহার দিয়ে থাকেন। বিদেশি দূত ও খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গ মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে নানাবিধ উপহার প্রদান করেন। এ সকল উপহার সামগ্রীতে বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন দেখা যায়। তোষাখানায় সংগৃহীত এসব উপহার সামগ্রীর মধ্যে চাঁদে পাঠানো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, চাঁদের মাটি, তরবারির স্বর্ণখচিত খাপ, প্রতীকি অশোকস্তম্ভ ও মালাবিয়া মিনার, গাজির পট এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্মারক উল্লেখ্যযোগ্য। তোষাখানা সংরক্ষণের জন্য “তোষাখানা সংরক্ষণ ও প্রশাসন আইন ১৯৭৪” প্রণয়ন করা হয়। পরে এটি সংশোধন করে “তোষাখানা সংরক্ষণ ও প্রশাসন আইন ১৯৯০” জারি করা হয় এবং ২০১২ সালে আইনটি পুনরায় সংশোধন করা হয় ।

 

বঙ্গভবনে তোষাখানার সংগ্রহ হাজারের অধিক। তোষাখানা থেকে আড়াইশ গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য প্রদান করা হয়েছে। জাদুঘরের আধুনিক শিল্পকলা ও বিশ্বশিল্পকলা বিভাগ দুটি তোষাখানার এসব সামগ্রী প্রদর্শন করছে। উল্লেখ্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক এ তোষাখানাটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

 


Share with :
Facebook Facebook