মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২১st মার্চ ২০১৮

  মোঃ আবদুল হামিদ

     মহামান্য রাষ্ট্রপতি

    গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ

 

জনাব মোঃ আবদুল হামিদ ১৯৪৪ সনের ০১ জানুয়ারী কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম হাজী মোঃ তায়েব উদ্দিন এবং মাতার নাম মরহুমা তমিজা খাতুন।

 

তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি উপজেলার নিকলী জি,সি হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ থেকে আইএ ও বিএ ডিগ্রি এবং ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত হন।

 

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৫৯ সনে তৎকালীন ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৬১ সনে তিনি ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় আইয়ূব বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সনে তিনি হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট এর বিরোধিতা করেন এবং ঐ সময় ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়ার কারণে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তাঁকে কারারুদ্ধ করেন। ১৯৬২-৬৩ সনে তিনি কিশোগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৬৪ সনে কিশোরগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ১৯৬৫-৬৬ সনে কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপিত এবং ১৯৬৬-৬৭ সনে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানের কারণে ১৯৬৮ সনে তিনি আবারো কারাবরণ করেন। ১৯৬৯ সনের শেষ পর্যায়ে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

 

তিনি ১৯৭১ সনের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। একাত্তরের মার্চের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কিশোরগঞ্জে স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠনের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ মার্চ কিশোরগঞ্জ শহরের রথখোলা মাঠে ছাত্র-জনতার সভায় হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করেন।

 

২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ঐদিন সকালেই স্বাধীনতার  ঘোষণা টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়ে সর্বাত্মক মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি বাঙ্গালী সামরিক কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এপ্রিলের প্রথম দিকে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান-এর কিশোরগঞ্জ, ভৈরব ও বাজিতপুর শাখা থেকে আনুমানিক ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করে ঐ সময় নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত ব্রাহ্মনবাড়িয়া ন্যাশনাল ব্যাংক শাখায় জমা রাখেন।

 

এরপর তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের আগরতলায় চলে যান। তখন বৃহত্তর চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের অধিকাংশ সংসদ সদস্য সেখানে অবস্থান করেছিলেন। জনাব আবদুল হামিদ তাঁদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের কৌশলগত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ করেন। একই সাথে তিনি আগরতলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথেও মত বিনিময় করেন। পরে তিনি এপ্রিলের শেষ দিকে বাংলাদেশে এসে আরো কিছুসংখ্যক সহযোগীসহ মেঘালয়ের টেকেরহাট, গুমাঘাট, পানছড়া, মৈইলাম হয়ে বালাট পৌছান। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ থেকে আগতদের জন্য তিনি ইয়ুথ রিসিপশান ক্যাম্প চালু করেন এবং এর চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। মূলতঃ কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ থেকে আগতদের প্রাথমিক বাছাই কাজ এখানে করা হতো। এছাড়া মেঘালয়ে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা ও শরনার্থীদের ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে গঠিত জোনাল এ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল-এর তিনি অন্যতম সদস্য ছিলেন। তিনি ভারতের মেঘালয়ে রিক্রুটিং ক্যাম্পের চেয়ারম্যান থাকাকালীন তৎকালীন সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলা নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (মুজিব বাহিনী) এর সাব-সেক্টরের কমান্ডার পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলে তিনি মেঘালয়ে অবস্থানকারী শরনার্থীদের দেশে প্রত্যাবর্তনে উদ্ধুদ্ধ করতে বিভিন্ন ক্যাম্পে সভা করেন। শরনার্থীদের দেশে ফেরা সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি ১৯৭২ সনের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন।

 

স্বাধীনতার পর তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনঃর্বাসন কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৭৪ সনে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকান্ডের পর ১৯৭৬-৭৮ সনে তৎকালীন সামরিক ও বিএনপি সরকারের সময় তিনি কারারুদ্ধ হন। তিনি ১৯৭৮ সন থেকে ২০০৯ সনের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ১৯৯০ সন থেকে ১৯৯৬ সন পর্যন্ত ৫(পাঁচ) বার কিশোরগঞ্জ বার এসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

 

একজন সমাজসেবক ও শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক জনাব মোঃ আবদুল হামিদ মিঠামইন তমিজা খাতুন গালর্স হাইস্কুল, মিঠামইন হাজী তায়েব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, মিঠামইন কলেজসহ এলাকায় প্রায় ৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৪টি উচ্চ বিদ্যালয় ও ৩টি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি অষ্টগ্রাম রোটারি ডিগ্রি কলেজ, মিঠামইন ডিগ্রি কলেজ, ইটনা ডিগ্রি কলেজ, মিঠামইন হাইস্কুল, তমিজা খাতুন গালর্স হাইস্কুল, এলংজুড়ি হাইস্কুল, ইটনা গালর্স হাইস্কুল, বড়িবাড়ি হাইস্কুল, আবদুল্লাহপুর হাইস্কুল, অষ্টগ্রাম গালর্স হাইস্কুল, আবদুল ওয়াদুদ হাইস্কুল, কিশোরগঞ্জ গালর্স হাইস্কুল, ধনপুর হাইস্কুল, শহীদ স্মৃতি হাইস্কুল, মোহনতলা হাইস্কুল এবং ঘাগড়া আঃ গণি হাই স্কুলের পৃষ্ঠপোষকসহ তাঁর নির্বাচনী এলাকার আরও অনেক জুনিয়র হাইস্কুল ও মাদ্রাসার পৃষ্ঠপোষক।

 

জনাব আবদুল হামিদ ১৯৯৭-২০০০ সাল পর্যন্ত Inter parliamentary union (IPU) এর Sustainable Development কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৯ সাল হতে ২০০১ পর্যন্ত কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারিয়ান এসোসিয়েশন (C.P.A) এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। পুনরায় ২০১০ হতে ২০১২ পর্যন্ত IPU এর কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি একই সময় (২০১০-২০১২ পর্যন্ত) কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশন এর নির্বাহী সদস্য ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরীর আজীবন সদস্য ও নির্বাহী সদস্য এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও রাইফেলস্ ক্লাবের আজীবন সদস্য। তিনি কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সম্মানসূচক সদস্যসহ বহু সংগঠনের সাথে জড়িত।

 

জনাব মোঃ আবদুল হামিদ ১৯৭০ সনে ময়মনসিংহ-১৮ থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য, ১৯৭২ সনে গণপরিষদ সদস্য, ১৯৭৩ সনের ০৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে, ১৯৮৬ সনের ০৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৯৯১ সনের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১৯৯৬ সনের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২০০১ সনের ০১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। সর্বশেষ  ২০০৮ সনের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচন হন।

 

তিনি সপ্তম জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত হন এবং ১৩ জুলাই ১৯৯৬ থেকে ১০ জুলাই ২০০১ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি সম্মানিত স্পীকার নির্বাচিত হন এবং ১২ জুলাই ২০০১ থেকে ২৮ অক্টোবর ২০০১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি ২০০১ সনের ০১ নভেম্বর থেকে বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

তিনি ২০০৮ সনের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদে নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি সর্বসম্মতিক্রমে স্পীকার নির্বাচিত হন এবং সফলভাবে এ দায়িত্ব পালন করেন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি কার্য উপদেষ্টা কমিটি, কার্যপ্রণালী বিধি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি, বিশেষ অধিকার সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি এবং পিটিশন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

সরকারি সফর, সেমিনার, সভা ও ব্যক্তিগত কাজে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, কানাডা, ভারত, জি্ব্রালটার, বার্বাডোজ, মিশর, সিঙ্গাপুর, দুবাই, আবুধাবী, মরোক্কো, সৌদী আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া, সুইজারল্যান্ড, হংকং, কুয়েত, ইরান, কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন, সুইডেন, অস্ট্রেলিয়া, কিরিবাতি, ফ্রান্স, জার্মানী, ইতালী, নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, কাজাকিস্তান, তুরস্ক, জাপান, নাউরো, মালদ্বীপ, উগান্ডা, থাইল্যান্ড, ফিজি প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ জনাব মোঃ আবদুল হামিদ-কে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০১৩’ প্রদান করা হয়।

 

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকাকালে ১৪ মার্চ ২০১৩ থেকে জনাব মোঃ আবদুল হামিদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০ মার্চ ২০১৩ তারিখে রাষ্ট্রপতি জনাব জিল্লুর রহমান মৃত্যুবরণ করলে তিনি সে দিন থেকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২২ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২৪ এপ্রিল ২০১৩ তারিখে বাংলাদেশের ২০ তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

 

তিনি একজন পরোপকারী, বিনয়ী, সদালাপী এবং প্রচার বিমুখ ব্যক্তি। সমাজের সর্বস্তরের জনগণের সাথে সুন্দর ও হৃদয়গ্রাহী আচার আচরণের জন্য তিনি সুপরিচিত। তিনি অত্যন্ত সাদামাটা জীবন যাপনে অভ্যস্ত। দরিদ্র জনগণের জন্য রয়েছে তাঁর অকৃত্রিম দরদ ও ভালবাসা।

 

জনাব মোঃ আবদুল হামিদ বিবাহিত। তিনি তিন পুত্র ও এক কন্যার জনক।

বিভিন্ন দেশের সংবিধান ও ইতিহাস গ্রন্থ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি সম্বলিত পুস্তক পাঠ করা তাঁর প্রিয় শখ।

 

 

                                                                                       ------------


Share with :